একটি মহত্তম সংখ্যার সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন: ডেভিড বার্গম্যান (পর্ব- ১)

যে কোন সংঘাতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা খুঁজে বের করা অত্যন্ত দূরুহ ব্যাপার। বাংলাদেশের রাজনীতির পক্ষপাতমূলক চরিত্রের কারণে এই বাস্তব সমস্যাটি আরো তীব্র হয়েছে।

১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ আদালত ঢাকা ভিত্তিক ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিট বার্গম্যানের বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগসহ ১৯৭১ সালের যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায়
আদালত অবমাননার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই লেখাটিতে মি. বার্গম্যান ব্যাখা করেছেন কেন সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবিগণ এই সংখ্যাটির সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রাখেন।

Dhaka Based British Journalist David Bergman

Dhaka Based British Journalist David Bergman

বাংলাদেশ সরকার ঘোসিত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থানী মিলিটারী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হবার সংখ্যাটি কতোখানি বাস্তব সম্ভত? যদিও যুদ্ধের পর প্রায় চল্লিশ বছর পেরিয়ে গেছে, তবুও বাংলাদেশে এই প্রশ্নটি একটি সংবেদশনশীল প্রশ্ন হিসেবেই রয়ে গেছে। এই সংশয়ের একটা কারণ বাংলাদেশ এই সংখ্যাটি নিয়েই বেড়ে ওঠেছে- সংখ্যাটি স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হয় এবং এটি দেশের গল্প-কবিতা-সংস্কৃতিতে মিশে গেছে।

তাই অধিকাংশ মানুষের কাছেই এই সংখ্যার সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাদের গভীর বিশ্বাসের মূলে কুঠারাঘাত করার মতোই ব্যাপার।

দেশটির স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতা শেখ মুজিবর রহমান যিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও পিতা, তিনি এই সংখ্যাটি ঘোসণা করেছিলেন। তার ব্যক্তি পরিচয়ের কারণে এই সংখ্যায় বিশ্বাসের গভীরতা আরো এমন হয়েছে।

এই সংখ্যার সঠিকতা নিয়ে প্রশ্নতোলাও কারো কারো কাছে স্বয়ং শেখ মুজিবকে অপমানের শামিল। এটি এমন একটি সংখ্যা যা বাংলাদেশে অনেকের কাছে পূঁজনীয়, বিশেষত তার দল আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নেতাদের নিকট।

ত্রিশ লক্ষ সংখ্যাটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধ বিষয়ে একটি গোঁড়া জাতীয়তাবাদী বক্তৃতারই অংশ যা আওয়ামীলীগ সরকারের বিরোধী পক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে মুখোমুখি অবস্থানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেই চলে আসছে। এমনকি ত্রিশ লক্ষ্য সংখ্যাটি নিয়ে কোন সংশয় প্রকাশ করাও অনেক আওয়ামী লীগারের নিকট স্বাধীতনা বিরোধী এবং বিরোধী মনোভাব প্রকাশেরই শামিল।

তাই, বাংলাদেশে যারা ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হওয়ার বিষয়ে সংখাটির সঠিকতা খুঁজতে চান, তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ব্যক্তি আক্রমণের ভয়ে তারা তাদের মাথা নীচু করে রাখেন।

[নোট: ডেভিড বার্গম্যানের এই লেখাটি গত ২৪ এপ্রিল প্রকাশিত হয়েছে দ্যা হিন্দু পত্রিকায়। এটিি একটি বড় লেখা। লেখাটি আমি বাংলায় অনুবাদের চেষ্টা করে কয়েক কিস্তিতে এখানে প্রকাশের দুঃসাহস দেখাবো। আগ্রহীরা মূল লেখাটি এখান থেকে পড়ে নিতে পারেন]

কিনুন অথবা ডট কম থেকে

Advertisements